৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২:০৭



আজ : ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা : মার্চ ২৫, ২০২৫

  • কোন মন্তব্য নেই

    সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ, বহাল তবিয়তে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এমডি সাইফুল

    নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :

    পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগেও তিনি ঠিকে আছেন বহাল তবিয়তে। যদিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকার ও ব্যবস্থাপক সাফায়েত আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

    জানা যায়, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিজ খেয়াল খুশিমত খনির প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তরসহ নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ, উৎকোচের বিনিময়ে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে ২৫ জনকে নিয়োগ প্রদান, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন, ব্যাংকে এফডিআর, প্রক্রিয়া ছাড়াই গাছ কাটা ও টাকা আত্মসাৎ- এসব অভিযোগই তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অন্যদিকে, পেট্রোবাংলা থেকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তার দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ থাকলেও ৩ মাসেও ওই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

    কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলামের ৫০ হাজার ডলার খরচ করে নিজের দলবল নিয়ে বিদেশ ভ্রমন বিষয়ে তদন্তের দাবি করেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

    দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকারের বাড়ি বগুড়া জেলা সদরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়। প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকার ২০২২ সালের ২১ জুলাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে বিসিএমসিএলে কর্মরত আছেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতির পূর্বে তিনি চাইনিজ ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির ইঞ্জিনিয়ার টু কন্ট্রাক্ট ও মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) পদে দায়িত্বে ছিলেন। এই খনিতে চাকরিতে থেকে তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের পেছন দিকে ৮/১০ শতক জমির উপর ৫/৬ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার মিরপুর-২ এ একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়াও তিনি বগুড়া ও ফুলবাড়ীতে নামে বেনামে কয়েক কোটি টাকার জমি কিনেছেন।

    অভিযোগগুলো বলছে, তার নামে অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়, চৌহাটি, পার্বতীপুর, দিনাজপুর-এ চলাচলের জন্য একটি পাজেরো স্পোর্টস জিপ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। অফিস আদেশ বহির্ভূত আরও একটি পাজেরো ভি-৬ জিপ এককভাবে ঢাকাতে ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও তিনি অবৈধভাবে ঢাকায় বসবাসরত তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য একটি মিতসুবিসি ল্যান্সার কার ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম সরকারের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫ বছরে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি গত ২ বছরে কয়লা খনির আবাসিক এলাকায় ২৮/৩০ বছরের পুরাতন ৪০/৫০টি ফলদ বৃক্ষ কোনোরকম প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করে সব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

    অন্য একটি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করে ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এমডি সাইফুল ইসলামসহ ৬ কর্মকর্তা ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের নামে চায়না সফর করেন। এমডি’র সফরসঙ্গীরা হলেন- খান মো. জাফর সাদিক মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন), নজমুল হক, মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং), ইউনোছ আলী, ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) ও শাফায়েত আলী, ব্যবস্থাপক (ডিএলও) ও পেট্রোবাংলার ডিজিএম মামুন। তবে এক্সএমসি-সিএমসি চীন সফরের ব্যয় বহন করে বলে সাইফুল ইসলাম দাবি করেন। যদিও তা সঠিক নয়।

    একই বছর এমডি সাইফুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে (সোনালী ব্যাংক, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শাখা, হিসাব নং ১৮৩১৭৩৪০০২৪৯২) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় মাত্র এক বছরে ওই হিসাব নম্বরে এক কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশী শুধু নগদ অর্থ জমা করা হয়েছিল। তখন এ নিয়ে বেশ গুঞ্জন শোনা গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকারকে ফোন করে ও ম্যাসেজ পাঠিয়েও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।