প্রায় এক যুগ ধরে ডিপিডিসি উপ-সহকারি প্রকৌশলী গ্রহাকদের সাথে ব্যবসা করছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) উপ-সহকারি প্রকৌশলী এস এম সাগর মাহমুদ ‘ইমরোজ আলী’। কার্যত তিনি একটি নামের দুটি অংশ করে নিয়েছেন ব্যবসায়িক পরিসরে তিনি প্রকৌশলী এস এম সাগর মাহমুদ, যিনি ডিজিটাল পাওয়ার এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অন্যদিকে একই ব্যক্তি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ডিপিডিসি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইমরোজ আলী। বর্তমানে তিনি ডিপিডিসির গ্রীডে (সাউথ-১) কর্মরত আছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব যা আছে সবটুকুই কাজে লাগিয়েছেন তিনি, তাই ব্যবসা ও দুর্নীতির খবর থাকলেও তা তদন্তের মুখ দেখেনি। তিনি সংস্থাটির ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদের কোষাধ্যক্ষ এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদেরও কার্যনির্বাহী সদস্য।
অভিযোগ আছে, ডিপিডিসির গ্রাহকদের রীতিমত জিম্মি করে তার প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল কিনতে বাধ্য করেন ইমরোজ আলী। শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই নিয়মবিহর্ভূতভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ও ডিপিডিসি’র নিজস্ব চাকরি প্রবিধানমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জানা যায়, ডিজিটাল পাওয়ার এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস নামে ইমরোজ আলীর ওই প্রতিষ্ঠান মূলত সাব স্টেশনের বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে। বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার, কমপ্লিট সাব-স্টেশন, হাই সুইচগিয়ার, এলটি সুইজার, এমডিবি বক্স, ডিবি বক্স, এসডিবি বক্স, জেনারেটর সাপ্লাই, সাব-স্টেশন মেইটেন্যান্স, ট্রান্সফরমার ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমপ্লিট সোলার সিস্টেম সরবরাহ করে।
যে সমস্ত গ্রাহকরা বিদ্যুতের উচ্চচাপ সংযোগ নিতে এই দপ্তরে আসেন, তাদের টার্গেট করেন ইমরোজ আলীর প্রতিষ্ঠান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার মাতুয়াইল দক্ষিণ পাড়া কলেজ রোডের হাজী টাওয়ারে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেখানে ব্যবস্থাপণা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী এস এম সাগর মাহমুদ ওরফে ইমরোজ আলী।
আর এই প্রতিষ্ঠানের কারখানা রাজধানীর ডেমরা বাজারের পাশে ঐতিহ্যবাহী আহমেদ বাওয়ানি টেক্সটাইলস মিলসের একটি কক্ষের মধ্যে। প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ১৫৪ মতিঝিলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী ইমরোজ আলীর সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।